এডিসি নির্বাচনে কোনও জোট নয়, একক শক্তিতেই লড়াই করবে তিপ্রা মথা:প্রদ্যুৎ কিশোর
আগরতলা, ২১ ডিসেম্বর: আসন্ন এডিসি নির্বাচনে কোনও জোট নয়, একক শক্তিতেই লড়াই করবে তিপ্রা মথা—এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন। রবিবার আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা করেন।প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন যে বিজেপি ২৮টি আসনেই লড়বে এবং ২৮টি আসনেই জয়ী হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর পাল্টা মন্তব্য, “যদি বিজেপি সত্যিই ২৮টি আসনে জেতে, তাহলে তিপ্রা মথা আলাদাভাবেই নির্বাচনে লড়বে। তখন বিজেপি বুঝতে পারবে তারা ২৮টি আসন পাবে, না কি মাত্র ২টি—এই রায় দেবে জনগণ।”প্রদ্যোত আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং তিনি নিজে কেউই সন্ত্রাস চাননা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত আগে নিজের দলের নেতা-মন্ত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ, বিজেপির কিছু নেতা-মন্ত্রীর ভাষা ও মন্তব্য কেবল জোট শরিকদের প্রতি অসম্মানজনকই নয়, বিরোধীদের ক্ষেত্রেও তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যেকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, কিন্তু একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে যেভাবে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা তিপ্রা মথাকে আক্রমণ করছেন, তাতে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই তিপরা মথা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।তিপ্রাসা চুক্তি প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন প্রদ্যোত। তাঁর অভিযোগ, ভারত সরকার তিপ্রাসা চুক্তিকে সমর্থন করলেও রাজ্য সরকারের একাংশের নেতৃত্ব এই চুক্তি সফল হোক তা চাইছে না। এই দ্বিচারিতাই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রোমান হরফে পরীক্ষা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রদ্যোত স্পষ্ট জানান, এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাঁর কথায়, জনজাতি ছাত্রছাত্রীরা বাংলায় পরীক্ষা দিতে রাজি নয়। যতদিন না জনজাতিদের নিজস্ব লিপি বা স্ক্রিপ্ট চালু হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত রোমান হরফেই পরীক্ষা দেবে তারা, সেই দাবিতে আন্দোলন চলবে। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে এডিসি এলাকায় ককবরক ভাষা রোমান স্ক্রিপ্টে নার্সারি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ১৬৩৩টি এডিসি বিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে। ২০২৬ সাল থেকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এডিসি এলাকার স্কুলগুলিতেও রোমান স্ক্রিপ্টে পড়াশোনা চালু করা হবে। এর মাধ্যমেই এডিসি এলাকায় রোমান স্ক্রিপ্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান নেতৃত্বরা।





