আসাম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন।

অসম বা আসাম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় মঙ্গলবার আগরতলায় লোকভবন তথা পূর্বতন রাজভবনে। রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু এ আয়োজনে বক্তব্য রাখেন। তার পাশাপাশি আসামের ভূমিপুত্র ভূমিকন্যা অতিথিদের স্মারক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। কামাখ্যা মায়ের ভূমি আসামের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়েছে এক মনোজ্ঞ আয়োজনে। আসাম বা অসমের পর্যটনশিল্প, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি, সম্পদ, পরিকাঠামো উন্নয়ন, গুণী শিল্পী জুবিন গর্গসহ সমগ্র আসামের উপর একটি তথ্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এদিনের আয়োজনে। এদিন রাজ্যের রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন আসাম বা অসম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা ও আজকের আয়োজনের প্রেক্ষাপটে। আসাম বা অসম দিবস হচ্ছে আহোম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সুকাফা বা চুকাফার স্মৃতিকল্পে অসমে পালিত উৎসব। এদিন আহোম দিবসও পালন করা হয়। ১২২৮ সালের ২ ডিসেম্বর তারিখে চুকাফা বা সুকাফা পাটকাই পর্বত অতিক্রম করে অসমে প্রবেশ করে আহোম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন বলে এই দিনটি চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য অসমে অসম দিবস পালিত হয়। অসম বা
আসাম প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের ঐতিহ্য বা ইতিহাস ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
আসামে দুটি প্রধান দিবস পালিত হয়, যা প্রতিষ্ঠার সাথে সম্পর্কিত। এক : আসাম বা অসম দিবস বা সুকাফা দিবস। দুই : ‘আসাম রাজ্য গঠন দিবস’। অসম দিবস ২ ডিসেম্বর।এ দিবস প্রতি বছর ২ ডিসেম্বর আসামে “অসম দিবস” বা সুকাফা দিবস পালিত হয়। কথিত আছে ১২২৮ সালের এই দিনে তাই আহোম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চাওলুং সুকাফা পাটকাই পর্বত অতিক্রম করে অসমে প্রবেশ করেছিলেন এবং আহোম সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এই দিনটি তাঁর অসম আগমনের স্মরণে এবং আহোম যুগের গৌরবকে সম্মান জানাতে ১৯৯৬ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে। তার পাশাপাশি
আসাম রাজ্য গঠন দিবস পালন করা হয় ২৬ জানুয়ারি।ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো আসামের “রাজ্য গঠন দিবস” ২৬ জানুয়ারি পালিত হয়। তার ব্যাখ্যায় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি যখন ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়, তখন আসাম ভারতীয় ইউনিয়নের একটি সাংবিধানিক রাজ্যে পরিণত হয়েছিল। এই দিনটি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সাথে একই দিনে উদযাপিত হয়। মূলত, “অসম দিবস” আসামের ঐতিহাসিক সাম্রাজ্যের ভিত্তিকে স্মরণ করে, আর “রাজ্য গঠন দিবস” আধুনিক ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য হিসাবে আসামের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিকে চিহ্নিত করে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাখ্যা।
গোটা আয়োজনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অসমীয়া নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *